বারাসাতের নীল আকাশ - চতুর্থ পর্ব : একই শহর দুটো চোখ
বারাসাতের নীল আকাশ উপন্যাসের চতুর্থ পর্বে অর্ণব ও তিতলি শহরটাকে নতুন করে আবিষ্কার করে। পুরনো দেওয়ালের রঙের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গল্প আর ভাঁড়ের চায়ের আড্ডায় জমে ওঠে তাদের কথোপকথন।
Latest posts from AllBengal.
বারাসাতের নীল আকাশ উপন্যাসের চতুর্থ পর্বে অর্ণব ও তিতলি শহরটাকে নতুন করে আবিষ্কার করে। পুরনো দেওয়ালের রঙের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গল্প আর ভাঁড়ের চায়ের আড্ডায় জমে ওঠে তাদের কথোপকথন।
The Cover by Anupama Mandal explores the poignant contrast between a polished outward appearance and the silent scars hidden within. This moving poem reflects on the performance of being fine while masking deep emotional pain.
বারাসাতের নীল আকাশ উপন্যাসের তৃতীয় পর্বে বৃষ্টিভেজা এক রবিবারে শব্দলোকে অর্ণব আর তিতলির দেখা হয়। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিতলির আগমনে এক নতুন অনুভূতির ছোঁয়া লাগে অর্ণবের মনে।
অর্ণব আর তিতলির আবার দেখা হলো পুরনো বইয়ের দোকান শব্দলোকে। বইয়ের গন্ধে ঘেরা এই গল্পে ফুটে উঠেছে এক অদ্ভুত ভালো লাগা আর বন্ধুত্বের এক নতুন অধ্যায়।
বারাসাত স্টেশনের পুরনো প্ল্যাটফর্মে অর্ণব ও এক রহস্যময়ী তরুণীর প্রথম দেখার গল্প। জীবনানন্দ দাশের কবিতার হাত ধরে শুরু হওয়া এক অনন্য প্রেমের উপাখ্যান।
A Kolkata man's 18-year search for the mystery background music of RJ Jimmy's late-night radio show Dilse — and how a ringtone accidentally solved it.
জানুয়ারির নরম রোদে বারান্দায় বসে জামরুল চারার পাশে পুরনো কবিতার খাতায় লিখল অনিমেষ — 'দুপুরের একটা গন্ধ আছে।' থামতে পারল না। কুড়িটা পাতা ভরল। সন্ধ্যায় পরিবারকে পড়ে শোনাল। পরদিন চারায় নতুন একটা পাতা।
পাড়ার রাস্তায় সাইকেল নিয়ে যাচ্ছিল একজন। চুল পাতলা, পিঠ একটু বাঁকা। কিন্তু সেই হাঁটার ভঙ্গি। পঁচিশ বছর পর — 'রাজু?' — সে ঘুরে তাকাল। এক শব্দে বলল, 'আয়।' পলুর মা বললেন — 'শুধু পাশে ছিলি। সেটাই যথেষ্ট ছিল।'
ডিসেম্বরের কুয়াশায় সেই পুরনো বাড়িতে ফিরল অনিমেষ। দেয়ালের রঙ বদলে গেছে, উচ্চতার দাগগুলো ঢাকা পড়েছে। কিন্তু সেই জামরুল গাছটা আছে — আরও বড়। বেয়াল্লিশ বছর বয়সে গাছে চড়ে একটা জামরুল পেড়ে দিল ছেলেকে। রনি বলল, 'বাবা, সত্যিই অন্যরকম!'
বর্ধমানে এসেও আকাশটা একই ছিল। দেবাশিস প্রথম জিজ্ঞেস করেছিল পুরনো শহরের কথা। তিয়াশা চলে যাওয়ার আগে একটা চিঠি দিয়েছিল। আর রনি একদিন জিজ্ঞেস করল — "নস্টালজিয়া মানে কী?" উত্তরের জন্য অনিমেষকে Google Maps খুলতে হলো না।
বর্ধমানে চলে যাওয়ার আগের দিন মা চুপ করে তিনটি রান্না করেছিলেন — মুগ ডাল, আলু পোস্ত, ইলিশ ঝোল। রাজু দিয়েছিল একটা ব্যাগ ভরা জামরুল। দেয়ালের উচ্চতা মাপার দাগগুলো রেখে চলে গিয়েছিল অনিমেষ। কিছু ফেলে যাওয়া হয় না আসলে।
জুলাই ১৯৯৭-এর বৃষ্টিতে আম গাছের নিচে পলু কাঁদছিল। অনিমেষ পাশে বসেছিল, কিছু বলেনি। শুধু ছিল। পলু ২০০৩ সালে মারা যায়। কিন্তু সেই বৃষ্টির দুপুর — সেই নীরব পাশে থাকাটা — কোনোদিন মরে না।