By Ziya Pub Mar 17 Upd Mar 18

বারাসাতের নীল আকাশ - চতুর্থ পর্ব : একই শহর দুটো চোখ

বারাসাতের নীল আকাশ উপন্যাসের চতুর্থ পর্বে অর্ণব ও তিতলি শহরটাকে নতুন করে আবিষ্কার করে। পুরনো দেওয়ালের রঙের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গল্প আর ভাঁড়ের চায়ের আড্ডায় জমে ওঠে তাদের কথোপকথন।

বারাসাতের নীল আকাশ - চতুর্থ পর্ব : একই শহর দুটো চোখ

Bengali Serial Fiction  ✦  চতুর্থ পর্ব

বারাসাতের নীল আকাশ

"একই শহর, দুটো চোখ"

ভোরের ছাদ, চায়ের ধোঁয়া, প্রতীক্ষার আনন্দ

সেই রবিবার সকালে অর্ণব একটু আগেই উঠে গেল।

কারণ নেই বিশেষ। শুধু মনটা জেগে ছিল। ঘুমের মধ্যেও একটা হালকা উত্তেজনা — যেটা ঠিক উত্তেজনা নয়, বরং একটা প্রতীক্ষার আনন্দ।

ছাদে গেল। চা নিয়ে।

বারাসাতের সকাল তখন সবে জেগে উঠছে। দূরে কোথাও একটা মসজিদ থেকে আজানের শেষ প্রান্তটুকু ভেসে আসছে। পাশের বাড়ির কাকিমা উঠোনে তুলসীগাছে জল দিচ্ছেন। একটা কাক ডাকছে একটানা — যেন কারো সাথে ঝগড়া করছে।

এই শহরের সকাল অর্ণবের কাছে পৃথিবীর সেরা সকাল।

কলকাতার সকাল আছে — ব্যস্ত, দ্রুত। কিন্তু বারাসাতের সকাল একটু আলসে, একটু নিজের মতো। যেন শহরটা সময় নিয়ে উঠছে, তাড়া নেই।

চায়ে চুমুক দিতে দিতে অর্ণব ভাবল — আজ শব্দলোকে যাবে না। তিতলিকে বলবে — আজ বাইরে হাঁটি। এই শহরটা একটু ঘুরে দেখি।


শব্দলোকের সামনে তিতলি দাঁড়িয়ে ছিল।

আজ সময়মতো। পরনে হালকা সবুজ রঙের কুর্তা। চুলটা আজ একটু বাঁধা — পেছনে একটা সরু বেণী। কানে ছোট্ট রুপোর দুল।

অর্ণব কাছে আসতেই সে বলল, "দেরি করেননি।"

"আপনিও না।"

"গত সপ্তাহে দেরি হয়েছিল বলে এবার আগে বেরিয়েছি।" একটু হাসল।

অর্ণব বলল, "আজ ভেতরে না গেলে হয় না?"

তিতলি অবাক হল। "মানে?"

"মানে আজ বাইরে থাকি। এই শহরটা একটু হাঁটি।"

তিতলি একটু ভাবল। তারপর মুখে একটা উজ্জ্বল ভাব এল।

"চলুন।"

লক্ষ্য নেই। গন্তব্য নেই। শুধু হাঁটা।

এটাই সবচেয়ে ভালো ধরনের হাঁটা।

চাঁপাতলা থেকে শুরু হল। তিতলি বলল, "আমি একটু অন্যভাবে হাঁটি। মানে, পুরনো জিনিস দেখতে দেখতে হাঁটি। আপনি বিরক্ত হবেন না তো?"

"হব না।" "নিশ্চিত?" "নিশ্চিত।"

তিতলি হাঁটতে শুরু করল। আর সত্যিই — সে অন্যভাবে হাঁটে।

সাধারণ মানুষ হাঁটলে রাস্তা দেখে, গন্তব্য দেখে।

তিতলি হাঁটলে দেওয়াল দেখে।

প্রতিটা রং একটা যুগ — একটা বাড়ির জীবন

চাঁপাতলার একটা পুরনো বাড়ির দেওয়ালে থামল সে।

দেওয়ালটা জরাজীর্ণ। রং উঠে গেছে। কিন্তু সেই উঠে-যাওয়া রঙের নিচে আরেকটা রং — সেটাও উঠছে। তার নিচে আরেকটা।

"দেখুন," তিতলি বলল। "এই দেওয়ালটায় কতবার রং হয়েছে। একটার ওপর একটা। মানে এই বাড়িতে কতগুলো জীবন কেটেছে।"

সত্যিই — হলুদের নিচে সবুজ, সবুজের নিচে নীল, নীলের নিচে লাল।

"প্রত্যেকটা রং একটা যুগ। এই বাড়িতে হয়তো একবার কেউ নতুন বউ এনেছিল, তখন হলুদ রং করা হয়েছিল। তারপর বাড়িতে বড় কেউ গেছেন, রং নষ্ট হয়েছে। তারপর আবার নতুন কেউ এসেছে, নীল রং।"

অর্ণব তিতলির দিকে তাকাল। "আপনি এটা এখনই ভেবে বললেন?"

"হ্যাঁ। কেন?"

"কারণ এইভাবে ভাবা সবার হয় না।"

তিতলি একটু লজ্জা পেল। "আমি ডিজাইনার তো। রং দেখি।"

"রং দেখা আর গল্প দেখা এক জিনিস নয়।"

তিতলি চুপ করে রইল। তারপর হাঁটতে শুরু করল।

কদমতলার মোড়ে একটা চায়ের দোকান।

পুরনো। কাঠের বেঞ্চ। মাথায় টিনের চাল।

তিতলি বলল, "এখানে বসি একটু?" "চা?" "অবশ্যই।"

চা এল। ভাঁড়ে। ধোঁয়া উঠছে। দুজন বসল পাশাপাশি কাঠের বেঞ্চে। রাস্তায় মানুষ যাচ্ছে আসছে। একটা বাস থামল, কিছু মানুষ নামল। একটা ছেলে সাইকেলে যেতে যেতে মোবাইলে কথা বলছে — বিপজ্জনকভাবে।

"বারাসাতে আপনার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা কোনটা?" তিতলি জিজ্ঞেস করল।

অর্ণব ভাবল। "এখানেই।"

"কেন?"

"কারণ এই মোড়ে দাঁড়ালে বারাসাতের পুরো মুখটা দেখা যায়। এখান দিয়ে কলকাতার বাস যায়, ব্যারাকপুরের অটো যায়, স্থানীয় রিকশা যায়। সব ধরনের মানুষ এখানে আসে। মনে হয় পৃথিবীর একটা ছোট্ট সংস্করণ।"

তিতলি শুনল। চায়ে চুমুক দিল। "আমার প্রিয় জায়গা আলাদা।" "কোনটা?" "বলব। একটু পরে দেখাব।"


হাঁটা আবার শুরু। তিতলি একটা গলিতে ঢুকল — অর্ণব এই গলিটা চেনে, কিন্তু কখনো ঢোকেনি বিশেষ।

গলিটা সরু। দুপাশে পুরনো বাড়ি। মাঝখানে একটু জায়গা — রোদ পড়েছে। একটা বাচ্চা মেয়ে চক দিয়ে কী আঁকছে মাটিতে।

তিতলি থামল। মেয়েটার আঁকা দেখল। মেয়েটা আঁকছে — একটা বাড়ি, একটা গাছ, একটা সূর্য। সরল রেখায়। কিন্তু সূর্যটার চারদিকে অনেক দাগ — রশ্মি।

"সুন্দর হচ্ছে," তিতলি বলল মেয়েটাকে। মেয়েটা মুখ তুলল। হাসল। তারপর আবার আঁকতে লাগল।

"দেখলেন? সূর্যের চারদিকে কতগুলো দাগ। বড়রা আঁকলে অনেক কম দাগ দেয়। বাচ্চারা বেশি দেয়। কারণ বাচ্চারা সূর্যকে যতটা উজ্জ্বল মনে করে, সেটা আঁকতে চায়।"

অর্ণব মেয়েটার আঁকার দিকে তাকাল। "বড় হলে আমরা বাস্তববাদী হয়ে যাই।"

"হ্যাঁ। সেটাই দুঃখের।"

গলি পেরিয়ে একটা মাঠ।

ছোট মাঠ। চারদিকে বাড়ি দিয়ে ঘেরা। মাঝখানে একটা পুরনো শিমুলগাছ। গাছটা বিশাল। কাণ্ড মোটা, শাখা ছড়ানো। এই সময়টায় — মানে শীতের শেষে — শিমুলে ফুল ফোটার কথা। কিন্তু এই গাছটায় এখনো দু-একটা ফুল ধরে আছে। লাল, উজ্জ্বল।

শিমুলগাছ — বাবার স্মৃতি, পুরনো ভালোবাসা

তিতলি গাছটার দিকে হাঁটল। "এইটা।" "এইটা?" "এই গাছটা আমার প্রিয় জায়গা।"

তিতলি গাছের কাণ্ডে হাত রাখল। আস্তে, যেন পুরনো বন্ধুকে ছুঁচ্ছে।

"আমি যখন ছোট ছিলাম, বাবার সাথে প্রতি বিকেলে এখানে আসতাম। বাবা এই গাছের নিচে বসতেন, আমি মাঠে দৌড়াতাম।" একটু থামল। "বাবা এখন নেই।"

অর্ণব চুপ করে রইল।

"মানে," তিতলি বলল, "বাবা আছেন। কিন্তু বাইরে থাকেন। দিল্লিতে, চাকরিতে। মাসে একবার আসেন।"

"মিস করেন?"

"প্রতিদিন। এই গাছটা দেখলে মনে হয় বাবা কাছে আছেন। গাছটা বদলায়নি। বাবাও আসলে বদলাননি। শুধু দূরত্বটা আছে।"

অর্ণব কিছু বলল না। কিছু মুহূর্তে কথা থাকে না।

দুজন গাছের ছায়ায় বসল। মাঠে দুটো ছেলে ক্রিকেট খেলছে। দূরে একটা কাক গাছে বসে আছে। রোদটা নরম — শীতের শেষের রোদ, যেটা পোড়ায় না, শুধু উষ্ণ করে।

"আপনার বাবা-মা কেমন আছেন?" তিতলি জিজ্ঞেস করল।

"ভালো। দুজনেই এখানে। বাবা অবসর নিয়েছেন, মা গৃহিণী।"

"সুখী পরিবার।"

"হ্যাঁ। তবে—" অর্ণব একটু থামল। "তবে কখনো কখনো মনে হয় তাদের প্রত্যাশার ভার একটু বেশি। বাবা চান চাকরি হোক, মা চান বিয়ে হোক।" হাসল একটু তিক্তভাবে। "সাতাশে এসব নিয়ে কথা শুরু হয়ে যায়।"

তিতলি মাথা নাড়ল। "আমাকেও বলেন। পঁচিশেই শুরু হয়ে গেছে।"

দুজনে একসাথে হাসল। এই হাসিটা সহজ — একটু নিজেদের নিয়ে মজা করার হাসি।

"কিন্তু আপনি কী চান?" তিতলি জিজ্ঞেস করল।

"আমি?" অর্ণব আকাশের দিকে তাকাল। "আমি চাই এমন কিছু করতে যেটা সকালে উঠলে ভালো লাগবে। মানে, কাজে যেতে ইচ্ছে করবে।"

"সেটা কী?"

"জানি না এখনো।" সৎভাবে বলল। "হয়তো লেখা। হয়তো অন্য কিছু। খুঁজছি।"

তিতলি একটু সময় নিল। "আমিও খুঁজছি। ডিজাইন করি, কিন্তু নিজের কিছু করতে চাই। নিজের ছবির প্রদর্শনী, নিজের গল্প বলার ছবি।"

"করুন না।"

"সাহস লাগে।"

"আপনি বলেছিলেন না — বৃষ্টিতে ভিজতে পছন্দ। ভেজা হাতে ধরতে পছন্দ।"

তিতলি তাকাল।

"স্বপ্নটাও ভেজা হাতে ধরুন।"

তিতলির চোখে কী একটা ভাব এল। সরাসরি বলা যাচ্ছে না কী — কিন্তু একটা উষ্ণতা ছিল সেই দৃষ্টিতে।


দুপুর হওয়ার আগে উঠল দুজন।

হাঁটতে হাঁটতে আরো ঘুরল।

তিতলি দেখাল

কোন দোকানের ঝাঁপে সন্ধ্যায় বাদুড় ঝোলে।

কোন বাড়ির দেওয়ালে পুরনো বাংলা ক্যালেন্ডারের ছবি এখনো টাঙানো।

কোন গলিতে শীতে কুয়াশা সবচেয়ে বেশি জমে।

অর্ণব দেখাল

কোন চায়ের দোকানে সকালে সেরা জিলিপি পাওয়া যায়।

কোন মাঠে বিকেলে আলো পড়লে মনে হয় সোনা ছড়ানো।

কোন গলি দিয়ে গেলে পুরনো বাড়ির জানালা থেকে রান্নার গন্ধ আসে।

একই শহর।

কিন্তু দুটো আলাদা দেখার চোখ।

একজন রঙে দেখে, একজন গল্পে।

একজন অনুভব করে, একজন ভাবে।

মিলিয়ে নিলে — একটা সম্পূর্ণ দেখা হয়।

গরম জিলিপি — ঠান্ডা হলে বেকার

ফেরার পথে জিলিপি কিনল।

একটা ছোট্ট দোকান — গরম গরম জিলিপি ভাজছে। গন্ধ ছড়াচ্ছে।

"কত হবে?" অর্ণব জিজ্ঞেস করল। "আমি দেব।" তিতলি বলল। "না—" "আমি দেব।" দৃঢ়ভাবে বলল। টাকা বের করল।

অর্ণব হাসল। তর্ক করল না।

"সাবধান, গরম," তিতলি বলল।

"জানি।"

"তবু খাচ্ছেন তাড়াহুড়ো করে।"

"গরম থাকতে থাকতে খেতে হয়। ঠান্ডা জিলিপি বেকার।"

তিতলি হাসল। "এই দর্শন রান্নাঘরে কাজে লাগবে।"

"রান্না করেন?"

"একটু একটু। ভালো করি না।"

"আমিও না।"

"তাহলে দুজনে মিলে রাঁধলে হয়তো দ্বিগুণ খারাপ হবে।"

দুজনেই হাসল। এই হাসির মধ্যে একটা স্বাচ্ছন্দ্য ছিল — নিজেদের দুর্বলতা নিয়ে হাসতে পারার স্বাচ্ছন্দ্য।


কদমতলার মোড়ে এসে থামল। আজ বিদায় নেওয়াটা একটু কঠিন মনে হচ্ছে।

কারণ আজকের দিনটা আলাদা ছিল। শুধু বই পড়া নয়, শুধু চা খাওয়া নয় — এই শহরটা একসাথে দেখা। নিজেদের অনেকটা দেখা।

তিতলি বলল, "আজ অনেক ভালো লাগল।" "আমারও।" "এই শহরটা আসলে অনেক সুন্দর। আমরা দেখি না।"

"দেখার মানুষ লাগে। একা দেখলে অনেক কিছু চোখ এড়িয়ে যায়।"

তিতলি বলল, "অর্ণবদা, আপনি কি কখনো ফোনে কথা বলেন?"

অর্ণব হাসল। "মানে?"

"মানে, শুধু রবিবার দেখা হয়। মাঝখানের দিনগুলোতে—" থামল।

"মাঝখানের দিনগুলোতে?"

তিতলি একটু ইতস্তত করল। তারপর মোবাইল বের করল। "নম্বর দেবেন?"

নম্বর দেওয়া হল। সহজভাবে। স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু এই সহজটুকুর ভেতর একটা বড় পদক্ষেপ ছিল।

রবিবার থেকে সাতদিনে পৌঁছানো।

সাক্ষাৎ থেকে কণ্ঠস্বরে পৌঁছানো।

বাড়ি ফেরার পথে অর্ণব একটু অন্যমনস্ক ছিল।

সে শহরটাকে স্মৃতি দিয়ে দেখে।

তিতলি শহরটাকে রং দিয়ে দেখে।

দুটো মিলিয়ে একটা সম্পূর্ণ শহর হয়।

হয়তো মানুষও এরকম। একজন যেটা দেখতে পায় না, আরেকজন সেটা দেখে।

তখনই মোবাইলে একটা মেসেজ এল। অচেনা নম্বর। খুলল।

"বাড়ি পৌঁছেছেন? — তিতলি"

অর্ণব থামল। রাস্তার মাঝখানে। একটা ছোট্ট মেসেজ। কিন্তু এই মেসেজটায় একটা যত্ন আছে।

"এইমাত্র পৌঁছালাম। আপনি?"

"আমিও। আজ অনেক ভালো দিন ছিল।"

অর্ণব হাসল। একা রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাসল। পাশ দিয়ে একটা রিকশা যাচ্ছিল — রিকশাওয়ালা তাকাল। তারপর নিজেও একটু হাসল।

হয়তো সুখ ছোঁয়াচে।

রাতে খাওয়ার পর মা বললেন, "আজ মুখটা অন্যরকম দেখাচ্ছে তোর।"

"কেমন?"

"হাসি হাসি।"

"এমনিই।"

মা আর কিছু বললেন না। মায়েরা অনেক কিছু জানেন। বলেন না। সময় দেন।

তারার নিচে, ফোনের আলোয়, নতুন এক অপেক্ষা

রাতে ঘুমের আগে অর্ণব ছাদে গেল আরেকবার।

বারাসাতের রাত। আকাশে তারা। দূরে ট্রেনের শব্দ।

এই শহরে সে জন্মেছে, বড় হয়েছে, হাঁটেছে। কিন্তু আজকে প্রথমবার মনে হল — শহরটাকে নতুন করে দেখল। একটা মানুষের চোখ দিয়ে। তিতলির চোখ দিয়ে।

এবং এই নতুন দেখাটায় শহরটা আরো সুন্দর হয়ে গেছে।

হয়তো এটাই হয়।

কাউকে ভালোবাসলে শুধু সেই মানুষটাকে নতুন দেখি না — পুরো পৃথিবীটাকে নতুন দেখি।

শিমুলগাছের লাল ফুল আরো লাল হয়।

দেওয়ালের রং আরো গভীর হয়।

জিলিপির গন্ধ আরো মিষ্টি হয়।

"ঘুমাচ্ছিলাম না। ছাদে ছিলাম। তারা দেখছিলাম। শুভরাত্রি।"

"তারা দেখার সময় একটু বেশি দেখবেন। আমি বলেছি তাই।"

"আর পরের রবিবার আমি জায়গা ঠিক করব। আপনি শুধু আসবেন।"

পরের রবিবারের জন্য অপেক্ষা। আবার।

কিন্তু এবারের অপেক্ষায় একটা পার্থক্য আছে।

এবার অপেক্ষার মাঝখানে মেসেজ আছে। কথা আছে। কণ্ঠস্বর আছে — হয়তো।

সাতটা দিন আর এত দীর্ঘ নয়।

✦ চতুর্থ পর্বের সমাপ্তি ✦

পরের পর্বে

সাতটা দিনে কতটা কথা হয়। মেসেজে, ফোনে। রাত জেগে কথা। সকালে উঠে প্রথমে ফোন দেখা। আর পরের রবিবার তিতলি নিয়ে গেল একটা জায়গায় — বারাসাতের বাইরে, একটু দূরে, যেখানে একটা নদী আছে। নদীর পাড়ে বসে দুজনে প্রথমবার এত কাছে।

অপেক্ষায় থাকুন — পঞ্চম পর্ব: "নদীর কাছে কিছু কথা"

একই শহরে দুটো মানুষ বড় হয়। একই রোদ গায়ে লাগে, একই বৃষ্টিতে ভেজে। তবু দেখার চোখ আলাদা হয়। আর যেদিন দুটো আলাদা চোখ একে অপরের দেখা দেখতে শেখে — সেইদিন থেকে পৃথিবীটা একটু বেশি সুন্দর হয়ে যায়। অর্ণব আর তিতলি আজ সেই দিনটা পেল।

Analytics

Unique visitors

0

Visits

0

Reactions

0

💬 Comments (0)

No comments yet.

💌 Share Your Opinion With Us

📖 Read More Articles

Explore more articles and discover interesting stories from our blog.

View All Articles →