বারাসাতের নীল আকাশ - সপ্তম পর্ব : বসন্তের রঙে তিতলি ও অর্ণবের গল্প
ফাল্গুনের বারাসাতে পলাশের রঙে শুরু হলো দোলের উৎসব। অর্ণব ও তিতলির বসন্তের এই রঙিন দিনটি কেমন কাটল, তা জানতে পড়ুন বারাসাতের নীল আকাশ সিরিজের সপ্তম পর্ব।
Bengali Serial Fiction ✦ সপ্তম পর্ব
বারাসাতের নীল আকাশ
"রঙের মাঝে তুমি"
ফাল্গুন মাস এলে বারাসাত বদলে যায়।
এই বদলটা হঠাৎ নয়। ধীরে ধীরে। যেভাবে ভোর হয় — এক লহমায় নয়, আস্তে আস্তে আলো বাড়তে বাড়তে।
প্রথমে গাছে নতুন পাতা আসে। তারপর পলাশ ফোটে — দূরের মাঠে, রাস্তার ধারে, পার্কের কোণে। কমলা-লাল রঙে আকাশের একটা অংশ যেন আগুন লেগে যায়।
তারপর একদিন বাতাসে আবির ওড়ে। দোল এসে গেছে।
বারাসাতে দোল মানে শুধু উৎসব নয়। বারাসাতে দোল মানে পাড়ায় পাড়ায় রং। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মানুষ রঙিন। সাদা পোশাক পরে বেরোলে ফেরার সময় সেটা আর সাদা থাকে না।
ছোটবেলায় অর্ণব এই দিনটার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করত। বড় হওয়ার পরে দোলের উত্তেজনা একটু কমেছে। কিন্তু এবছর —
এবছর আবার মনে হচ্ছে ছোট্ট সেই ছেলেটা ফিরে এসেছে।
কারণ একটাই। তিতলি বলেছে — দোলে একসাথে বেরোবে।
দোলের আগের সন্ধ্যায় ফোনে কথা হল।
তিতলি"কাল কখন বেরোবে?"
অর্ণব"তুমি বলো।"
তিতলি"সকালে? নাকি একটু বেলায়?"
অর্ণব"সকালে ভালো। রোদটা নরম থাকে।"
তিতলি"সাড়ে আটটায়?" অর্ণব"আচ্ছা।"
তিতলি"কোথায় যাবে?"
অর্ণব"তুমি বলো।"
তিতলি"পাড়ায় পাড়ায় ঘুরব একটু। তারপর বিকেলে কোথাও বসব।"
অর্ণব"ঠিক আছে।"
তিতলি"অর্ণব, কাল আমার একটা বন্ধু থাকবে সাথে। রিয়া। আপত্তি নেই তো?"
অর্ণব"নেই। তোমার বন্ধু মানে ভালো মানুষ হবে।"
তিতলি"তুমি জানো না। রিয়া অনেক কথা বলে।"
অর্ণব"আমি ভালো শ্রোতা।"
তিতলি"এটাই ভয়। কারণ রিয়া তোমাকে প্রশ্ন করবে। অনেক। আমার সম্পর্কে। তুমি সব বলে দেবে।"
অর্ণব"কী বলব? তোমার সম্পর্কে কী জানি আমি?"
তিতলি"অনেক কিছু।"
"যতটুকু জানি, সেটা তোমার ভালো ছাড়া কিছু নয়।"
"কথাটা ভালো বললে।" তিতলি আস্তে বলল।
দোলের সকাল
আকাশ পরিষ্কার। বারাসাতে এই দিন সকাল থেকে মানুষ রঙিন হতে শুরু করে।
অর্ণব বেরোল সাদা পাঞ্জাবিতে।
মা"সাদা পরে গেছিস? নষ্ট হয়ে যাবে।"
অর্ণব"দোলে সাদাই পরতে হয়।"
মা"রং লাগলে উঠবে না।"
অর্ণব"উঠবে না হলে নাই। দোল তো বছরে একবার।"
মা কিছু বললেন না। মুখে একটু হাসি।
কদমতলার মোড়ে তিতলি দাঁড়িয়ে। পাশে একটা মেয়ে।
ছোটখাটো, চুলে ফুল গোঁজা, চোখে কাজল, মুখে হাসি — এটাই রিয়া। অর্ণবকে দেখতেই রিয়া তিতলিকে কনুই দিয়ে খোঁচা দিল। তিতলি একটু লাল হল।
তিতলি"এই হল অর্ণব।"
রিয়াসরাসরি তাকাল। মূল্যায়নের দৃষ্টি। তারপর হাসল। "ভালো।" একটু মাথা নাড়ল। যেন পরীক্ষা পাস হয়েছে।
তিতলি মাথায় হাত দিল। অর্ণব হাসল।
হাঁটা শুরু হল — পাড়ায় পাড়ায়।
রং উড়ছে · আবির উড়ছে · বাচ্চারা ছুটছে
একটা ছেলে হঠাৎ পিচকিরি ছুঁড়ল — হলুদ রং সরাসরি অর্ণবের পাঞ্জাবিতে।
"ওরে—" অর্ণব বলল। ছেলেটা হেসে ছুটে পালাল। তিতলি আর রিয়া হাসতে হাসতে প্রায় বাঁকল।
তিতলি"হলুদ মানায়।"
অর্ণব"এইমাত্র বেরোলাম।" নিজের পাঞ্জাবির দিকে তাকাল।
রিয়া"দোলে এটাই হয়। মানিয়ে নাও।"
হাঁটতে হাঁটতে রিয়া প্রশ্ন করতে শুরু করল। সত্যি সত্যি অনেক প্রশ্ন।
রিয়া"তুমি কী করো?" অর্ণব"ইঞ্জিনিয়ারিং।"
রিয়া"বারাসাতেই থাকো?" অর্ণব"হ্যাঁ। জন্ম থেকে।"
রিয়া"বই পড়তে ভালো লাগে?" অর্ণব"হ্যাঁ।"
রিয়া"তিতলির মতোই।" (তিতলির দিকে তাকিয়ে) "দেখ, মিলে গেছে।"
তিতলি"রিয়া—" রিয়া"কী? সত্যি কথা বলছি।"
রিয়া"তিতলি তোমার কথা বলেছে আমাকে।" অর্ণব"কী বলেছে?"
রিয়া"বলেছে — বই নিয়ে কথা বলে। ভালো শ্রোতা। আর—" থামল।
অর্ণব"আর?" রিয়া"বাকিটা তুমি তিতলিকেই জিজ্ঞেস করো।"
তিতলিরিয়ার হাত চেপে ধরল। "রিয়া।" রিয়া"আচ্ছা আচ্ছা, চুপ করলাম।"
একটা পাড়ার মোড়ে উৎসব
ঢোল বাজছে। আবির উড়ছে। মানুষ রঙ মাখছে একে অপরকে।
রিয়া বলল, "আমরাও যাই।" তিনজন ঢুকল। ভিড়ের মধ্যে। আবির উড়ছে চারদিকে। লাল, হলুদ, সবুজ, নীল।
রিয়া ঝাঁপিয়ে পড়ল উৎসবে। এক মিনিটে রঙিন হয়ে গেল। অর্ণব আর তিতলি একটু পাশে দাঁড়িয়ে। ভিড়টা একটু সরে গেছে এদিক থেকে।
— মুহূর্তটা —
তিতলির হাতে একটু আবির।
সে অর্ণবের দিকে তাকাল।
"দিই?" "দাও।"
তিতলি একটু আবির নিল। হাত বাড়াল। অর্ণবের গালে। আস্তে।
লাল আবির।
অর্ণব নিশ্চল রইল। তিতলির হাতটা একটু কাঁপল — সামান্য। তারপর সরে গেল।
দুজন তাকাল।
এই মুহূর্তটা — কোনো কথা নেই, কোনো ব্যাখ্যা নেই — শুধু একটা স্পর্শ আর একটা তাকানো।
এটুকুই। এটুকুই অনেক।
রিয়া ফিরে এল। পুরো রঙিন।
রিয়া"তোমরা দুজন এখানে দাঁড়িয়ে?" তারপর তিতলির গালে আবির দিল এক মুহূর্তে। "এই নাও।"
তিতলিহাসল।
রিয়া অর্ণবের দিকে তাকাল। গালের লাল আবির দেখল। একটু মুচকি হাসল। কিছু বলল না।
বেলা বাড়ল।
রোদ চড়ল একটু। তিনজন একটা দোকানে ঢুকল ঠান্ডা কিছু খেতে। আইসক্রিম। রিয়া ভেতরে গেল অর্ডার দিতে। অর্ণব আর তিতলি বাইরে দাঁড়িয়ে।
তিতলির মুখে আবির। চুলে আবির। কিন্তু চোখ দুটো পরিষ্কার — কালো, গভীর।
অর্ণব"আজ ভালো লাগছে?"
তিতলি"অনেক। অনেকদিন এভাবে দোল খেলিনি।"
অর্ণব"কেন?"
তিতলি"বড় হয়ে গেলে দোল মানে শুধু ছুটি হয়ে যায়। উৎসব থাকে না।"
অর্ণব"আজ থাকল?" তিতলি"আজ থাকল।"
তিতলি"তুমি কি জানো — তোমার গালে আবির লাগানোর আগে আমার হাত কাঁপছিল?"
অর্ণব"কেন?"
তিতলি"জানি না। এমনিই।" একটু হাসল। "বোকার মতো।"
অর্ণব"বোকার মতো নয়। কারণ আমার বুকটাও কাঁপছিল।"
দুজন হাসল। নিজেদের নিয়ে। নিজেদের ছোট্ট কাঁপনগুলো নিয়ে।

রিয়ার কথা
আইসক্রিম খেতে খেতে রিয়া বলল, "তোমরা দুজন কখন থেকে কথা বলছ?"
তিতলি"প্রায় দুই মাস।" রিয়া"দুই মাসে এতদূর?"
অর্ণব"এতদূর মানে?" রিয়া"মানে এই যে — একে অপরকে দেখলেই মুখে একটা আলো আসে। আমি দেখছি সকাল থেকে।"
তিতলি"রিয়া—" রিয়া"সত্যি কথা বলছি। মিথ্যে বলব না।"
অর্ণব"তুমি কি সবসময় এরকম সরাসরি কথা বলো?" রিয়া"হ্যাঁ। তিতলির সাথে দশ বছরের বন্ধুত্ব। সে আমাকে সব বলে। আমি সব বলি।"
অর্ণব"তাহলে তিতলির সম্পর্কে তুমি অনেক জানো।" রিয়া"অনেক। জানতে চাও?" তিতলি"রিয়া।" রিয়া"আচ্ছা বলব না। কিন্তু একটা কথা বলব।"
রিয়া সিরিয়াস হল হঠাৎ।
"তিতলি অনেক সহজে মানুষকে বিশ্বাস করে না। তুমি জানো?"
"ওর সাথে যারা আগে ছিল — তারা সেই বিশ্বাসের মূল্য দেয়নি। সে চুপ করে থেকেছে। আমাকে বলেছে।"
"তোমাকে বলছি — কারণ তুমি ভালো মনে হচ্ছে। কিন্তু ভালো মনে হলেই হয় না। ভালো থাকতে হয়।"
নীরবতা। তিতলি অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।
অর্ণব"জানি।" রিয়া"শুধু জানলে হবে না।"
অর্ণব"করব।" রিয়া"ঠিক আছে।"
আইসক্রিম খাওয়া শেষ হল। রিয়া উঠে বলল, "আমি একটু ওদিকে যাই। পরিচিত কেউ আছে।" বলে চলে গেল।
তিতলি"রিয়া অনেক কিছু বলে ফেলল।"
অর্ণব"ভালোই করল।"
তিতলি"তোমার কিছু মনে হল না?" অর্ণব"না।"
তিতলি"কেন?" অর্ণব"কারণ রিয়া মিথ্যে বলেনি। সত্যি বন্ধু হলে এভাবে বলে।"
"যে তুমি সহজে বিশ্বাস করো না। তাহলে বুঝলাম — তুমি আমাকে যতটুকু বিশ্বাস করেছ, সেটা অনেক বড় ব্যাপার।"
তিতলির চোখে কী একটা হল। সে বলল না কিছু। কিন্তু হাতের কাছে টেবিলে যে আঙুলগুলো ছিল — সেগুলো একটু নড়ল।
অর্ণব দেখল। সে নিজের হাতটা টেবিলে রাখল। তিতলির হাতের পাশে।
কাছে। স্পর্শ নয়। শুধু কাছে।
তিতলি দেখল। সরাল না।
পার্কে
রিয়া ফিরল একটু পরে। "চলো। বিকেলে কোথাও বসব।"
তিনজন হাঁটল। রাস্তার ধারের একটা পার্কে গেল। বারাসাতের ছোট্ট পার্ক। গাছ আছে, বেঞ্চ আছে, বাচ্চারা খেলছে। বসল। রোদ পড়ছে গাছের ফাঁক দিয়ে।
রিয়া"জীবনে একটা কথা শিখেছি।" তিতলি"কী?"
রিয়া"দোলের রং উঠে যায়। কিন্তু সেই দিনের স্মৃতি উঠে যায় না।"
অর্ণব"কোথায় পড়লে?" রিয়া"পড়িনি। নিজে বুঝলাম।"
অর্ণব"দার্শনিক।" রিয়া"আমি জানি।" হাসল।
বিকেল গড়াল। রিয়াকে বাড়ি ফিরতে হবে।
রিয়াতিতলিকে জড়িয়ে ধরল। "আমি গেলাম।" তারপর অর্ণবের দিকে তাকাল। "দেখা হবে আবার।"
অর্ণব"নিশ্চয়ই।"
রিয়াগম্ভীরভাবে বলল। "মনে রেখো।" অর্ণব"রাখব।"
রিয়া চলে গেল।
তিতলি আর অর্ণব বেঞ্চে বসে রইল। পার্কে বাচ্চারা খেলছে। দূরে কোথাও ঢোলের শব্দ এখনো আসছে মিহি হয়ে। আকাশে সন্ধ্যার আভাস।
অর্ণব"রিয়া ভালো বন্ধু তোমার।" তিতলি"হ্যাঁ। দশ বছর। স্কুল থেকে।"
অর্ণব"আমার কোনো বন্ধু নেই এরকম। যাকে সব বলা যায়। "
তিতলি তাকাল।
তিতলি "কেন?"
অর্ণব একটু ভাবল।
অর্ণব"হয়তো সহজে খুলি না। নিজেকে।"
তিতলি"আমার সাথে খুলছ।" অর্ণব"হ্যাঁ। সেটা একটু অবাক লাগছে নিজের কাছেই।"
তিতলি"কেন অবাক?"
"কারণ তোমার সাথে কথা বলতে ভাবতে হয় না। কথা বেরিয়ে আসে।"
তিতলি"সেটাই তো হওয়া উচিত।" অর্ণব"উচিত হলেই হয় না। তুমি জানো।" তিতলি"জানি।"
একটু চুপ। তারপর তিতলি বলল, "অর্ণব, তুমি কি জানো — তোমার সাথে কথা বলা আমার কাছে কেমন?"
"মনে হয় যেন, অনেকদিন ধরে একটা বোঝা বহন করছিলাম। তোমার সাথে কথা বললে সেটা একটু হালকা হয়।"
"এটা ভালো লাগে। কিন্তু একটু ভয়ও লাগে। কারণ কিছু যদি হালকা হয়ে যায় — তাহলে সেটার উপর নির্ভর করা শুরু হয়। আর নির্ভর করা মানে ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া।"
"ভঙ্গুর মানে দুর্বল নয়।"
"কাচ ভঙ্গুর। কিন্তু কাচ দিয়ে জানালা হয়। জানালা না থাকলে আলো আসে না। ভঙ্গুর না হলে আলো ঢোকে না। ভেতরে।"
তিতলি"মানে তুমি বলছ — ভঙ্গুর হওয়া ঠিক আছে?"
অর্ণব"বলছি — ভঙ্গুর না হলে আলো ঢোকে না। ভেতরে।"
তিতলি চুপ করে রইল। অনেকক্ষণ। বাতাস এল। পার্কের গাছে পাতা নড়ল।
"তোমার সাথে কথা বললে মনে হয় — সব কিছু ঠিক থাকবে।"
অর্ণব কিছু বলল না। শুধু তিতলির দিকে তাকাল। তিতলিও তাকাল। পার্কে বাচ্চারা খেলছে। ঢোলের শব্দ আসছে দূর থেকে। আকাশে প্রথম তারা।
ফেরার পথে
রাস্তায় তখনো রং। পায়ে আবির লাগছে। হাঁটছে দুজন। পাশাপাশি।
এত কাছে যে বাতাসে একটু হলে ঠেকে যায়। কিন্তু ঠেকছে না।
মাঝখানে একটু জায়গা। এই জায়গাটুকু — না দূরত্ব, না মিলন। একটা মিষ্টি মাঝামাঝি।
তিতলি"রিয়া পরে ফোন করবে।" অর্ণব"জানি।"
তিতলি"কেন জানো?" অর্ণব"কারণ সে জানতে চাইবে বিকেলে কী হল।"
তিতলি"ঠিকই ধরেছ। কী বলবে?"
তিতলি"সত্যি।" অর্ণব"সত্যি কী?"
তিতলি"বলব — ভালো ছিল।" অর্ণব"শুধু?"
তিতলি"আর বলব—" থামল। একটু হাসল। "বাকিটা রিয়াকেই বলব।"
কদমতলার মোড়ে বিদায়
দুজনের মুখে আবির। দুজনের পোশাকে রং। সন্ধ্যার আলোয় দুজন রঙিন।
তিতলি"আজ ভালো দিন ছিল।" অর্ণব"হ্যাঁ।"
তিতলি"রিয়া তোমাকে পছন্দ করেছে।" অর্ণব"তুমি কী করে জানলে?"
তিতলি"কারণ সে ওরকম সরাসরি কথা তাদেরকেই বলে যাকে পছন্দ করে। যাকে পছন্দ করে না — তার সাথে ভদ্র থাকে।"
অর্ণব"তাহলে ভালো।" তিতলি"হ্যাঁ। রিয়ার অনুমোদন অনেক বড় ব্যাপার।"
অর্ণব"একটা কথা।" তিতলি"কী?"
অর্ণব"আজকে যখন আবির দিলে — তোমার হাত কাঁপছিল। বললে।" তিতলি"হ্যাঁ।"
অর্ণব"আমার বুক কাঁপছিল। সেটাও বললে।"
অর্ণব"কিন্তু একটা কথা বলিনি।" তিতলি"কী কথা?"
"সেটা ভালো কাঁপন ছিল।"
তিতলি চুপ করে রইল। তারপর মুখে সেই হাসি।
ঠোঁটের কোণে সামান্য বাঁক। প্রথম দিনের হাসি।
"আমারও।"
বাড়ি ফিরল অর্ণব। মা দেখলেন — পুরো রঙিন।
মা"এ কী অবস্থা!" অর্ণব"দোল খেলেছি।"
মা"পাঞ্জাবিটা—" অর্ণব"কাচ্ছি।" মা"কাচলে উঠবে না।"
"উঠুক বা না উঠুক। স্মৃতিটা থাকবে।"
মা একটু অবাক হলেন। তারপর কী বুঝলেন, কে জানে। বললেন না কিছু। শুধু বললেন, "খেতে আয়।"
রাতের বার্তা
রাতে ঘুমের আগে রিয়ার ফোন তিতলিকে।
তিতলি → অর্ণবরিয়া ফোন করেছিল।
অর্ণবকী বলল?
তিতলিবলল — ছেলেটা ভালো। রাখিস।
অর্ণবরিয়াকে ধন্যবাদ।
তিতলিনিজে বলো একদিন।
অর্ণববলব।
তিতলিঅর্ণব।অর্ণবহুম।
তিতলিআজকের দিনটা মনে থাকবে।
অর্ণবআমারও। কেন?
কারণ আজকে প্রথমবার রঙিন হলাম। শুধু পোশাকে নয়।
তিতলিআমিও।
তিতলিশুভরাত্রি।
অর্ণবশুভরাত্রি।
বাইরে বারাসাতের রাত। কোথাও দূরে এখনো একটু ঢোলের শব্দ।
দোল শেষ হচ্ছে। কিন্তু রং থেকে যাচ্ছে।
পোশাকে থাক, না থাক। মনে থাকছে।
সেটাই আসল রং।
✦ সপ্তম পর্বের সমাপ্তি ✦
পরের পর্বে
বসন্ত পুরোপুরি এসে গেছে। গরম পড়ছে। অর্ণব একটা ছোট্ট গল্প লিখেছে — প্রথমবার। তিতলিকেও সেটা পড়াতে চায়। কিন্তু সাহস হচ্ছে না। আর তিতলির বাড়িতে একটা ঘটনা হল — বাবা হঠাৎ বাড়ি এলেন। এবং তিতলির বাবা জানতে চাইলেন — ছেলেটা কে।
অপেক্ষায় থাকুন — অষ্টম পর্ব: "বাবার সামনে"
দোলের রং এক দিনে ওঠে না। কয়েকদিন লাগে। তেমনি ভালোবাসার রংও হঠাৎ আসে না — আসে আস্তে আস্তে, পরতে পরতে। অর্ণব আর তিতলির গায়ে আজ রং লাগল। সেই রং এখন তাদের ভেতরে। বাইরে যতই ধুক — ভেতরেরটা থাকবে। চিরকাল।
