বারাসাতের নীল আকাশ - চতুর্দশ পর্ব : দুই পরিবারের মহামিলন
বারাসাতের কুয়াশাঘেরা শীতের সকালে অর্ণব ও তিতলি তাদের দুই পরিবারকে মিলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভালোবাসার পূর্ণতা পেতে সাহসের সাথে এক নতুন পদক্ষেপের গল্প এটি।
Bengali Serial Fiction ✦ চতুর্দশ পর্ব
বারাসাতের নীল আকাশ
"দুই পরিবার"

ডিসেম্বরের ভোর — কুয়াশার বারাসাত
ডিসেম্বর এলে বারাসাতে একটা আলস্য নামে।
ভোরে কুয়াশা। রাস্তায় পাতলা জলের আস্তরণ। গাছের পাতায় শিশির। সকালে বেরোলে নাক-মুখ থেকে ধোঁয়া বেরোয়।
কিন্তু বেলা বাড়লে রোদ আসে। শীতের রোদ। নরম। সোনালি।
এই রোদে বসে থাকলে মনে হয় — পৃথিবীটা আসলে ততটা কঠিন নয়।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ।
অর্ণব অফিস থেকে ফিরে ছাদে বসেছিল। শীতের বিকেলের রোদ গায়ে লাগছিল। হাতে চা। মাথায় একটা কথা।
এই কথাটা অনেকদিন ধরে আছে। কিন্তু বলা হয়নি।
সময় খুঁজছিল। হয়তো এখন সময়।
"হ্যালো।" "হ্যালো। কী করছ?" "বাড়িতে। মায়ের সাথে।" "বাবা কবে আসছেন?" "এই সপ্তাহান্তে।"
"তিতলি।" "হুম।" "একটা কথা বলব?" "বলো।"
"তোমার বাবা আসার পরে — দুই পরিবার কি একসাথে বসতে পারে? মানে — আমার বাবা-মা। তোমার বাবা-মা। একসাথে।"
নীরবতা। তিতলি বুঝল।
"কেন?" "কারণ সময় হয়েছে।"
"মা-বাবাকে বলব?" "বলো।" "তারা রাজি হবেন?" "হবেন মনে হয়।" "তোমার বাবা-মা?" "আমি বলব।"
"ভয় লাগছে?" "একটু।" "কীসের?" "জানি না। অনেক কিছুর।" "ভয় লাগাই স্বাভাবিক।" "তুমি?" "আমারও।"
"তবু করবে?"
"করব। কারণ না করলে সারাজীবন অপেক্ষা করতে হবে। আর সারাজীবন অপেক্ষার চেয়ে একটু ভয় পেয়ে এগোনো ভালো।"
"তুমি সাহসী হয়ে গেছ।" "তুমি শিখিয়েছ।" "কী শিখিয়েছি?"
"ভেজা হাতে ধরতে।"
সেই রাতে অর্ণব মায়ের কাছে গেল।
"মা।" "হুম।" "একটা কথা।" মা হাত মুছলেন। ঘুরলেন।
"তিতলির পরিবারের সাথে একটা বৈঠক করতে চাই।" মা চুপ করে রইলেন। একটু। তারপর বললেন, "কবে?" "এই মাসে।"
মা একটু ভাবলেন। "তোমার বাবাকে জিজ্ঞেস কর।"
বাবা খবরের কাগজ পড়ছিলেন। শুনলেন। কাগজ রাখলেন। চশমা খুললেন।
"সুরেশ মজুমদারকে চিনি। ভালো মানুষ।" "জানি।" "তুমি কি নিশ্চিত?" "হ্যাঁ।"
"মেয়েটা কি নিশ্চিত?" "সে বলেছে।"
"ঠিক আছে। তারিখ ঠিক করো।"
"বাবাকে বলেছি।" "কী বললেন?" "বললেন — ঠিক আছে। দেখা যাক।"
"মা?" "মা বললেন — ভালো হবে।"
"দিন ঠিক করি।" "পরের রবিবার?" "হ্যাঁ।" "কোথায়?" "তোমাদের বাড়িতে। বাবা-মা যাবেন।"
তিতলি একটু চুপ। তারপর — "আচ্ছা।"
সেই রবিবারের আগের সপ্তাহটা কাটল অদ্ভুতভাবে। ভেতরে একটা উত্তেজনা।
"ঘুম হচ্ছে না।" "কেন?" "রবিবারের কথা ভাবছি।" "ভালো কারণে।" "ভালো হবে তো?" "হবে।" "নিশ্চিত?"
অর্ণব সৎভাবে বলল। "না। কিন্তু মনে হচ্ছে হবে।"
"তুমি কখনো মিথ্যে সান্ত্বনা দাও না।" "দেওয়া উচিত না।"
"কারণ মিথ্যে সান্ত্বনা ক্ষণিকের। সত্যি ভরসা স্থায়ী।"
"তোমার সাথে কথা বললে কেন ভালো লাগে জানো?"
"কারণ তুমি সত্যি বলো। সুন্দর করে।"
রবিবার। ডিসেম্বরের একটা সকাল।
কুয়াশা। শীতের রোদ। বারাসাত শান্ত। অর্ণবের বাবা-মা তৈরি হলেন। মা মিষ্টি কিনলেন। বাবা পরিষ্কার পাঞ্জাবি পরলেন।
অর্ণব দেখল। বাবা-মা যাচ্ছেন।
এই দৃশ্যটা। কতটা পরিচিত — কিন্তু আজকে আলাদা।
তিতলিদের বাড়ি। বাগানে গাঁদাফুল এখনো আছে। শীতেও।
তিতলি। আজকের পোশাক — গাঢ় লাল পাড়ের সাদা শাড়ি। চুল বাঁধা। মুখে হালকা সাজ।
অর্ণবের মা দেখলেন। "সুন্দর।"
তিতলি একটু লজ্জা পেল। "আসুন।"

দুই পরিবারের প্রথম বৈঠক — শীতের বসার ঘরে
ভেতরে। দুই পরিবার।
প্রথম কয়েক মিনিট আড়ষ্ট। স্বাভাবিক। দুটো পরিবার প্রথমবার বসেছে।
অর্ণবের বাবা বললেন, "সুরেশবাবু, আপনাকে চিনতাম। তবে সামনে বসার সুযোগ হয়নি।"
কথা শুরু হল। বারাসাত নিয়ে। পাড়া নিয়ে। পুরনো দিন নিয়ে।
দুই বাবার পরিচিত অনেক মানুষ এক। পুরনো স্কুল এক। পুরনো দোকান এক। এই শহরটা এরকমই। সবাই কোথাও না কোথাও যুক্ত।
মায়েরা কথা বলছেন। রান্না নিয়ে। ছেলেমেয়ে নিয়ে। সংসার নিয়ে।
"তিতলির বাবা দিল্লিতে থাকেন। একটু কষ্ট হয়েছে।" "বুঝি।"
"কিন্তু মেয়েটা ভালো সামলেছে।" "দেখলাম। শক্ত মেয়ে।"
"আপনার ছেলেও ভালো।" "চেষ্টা করেছি।"
চা এল। মিষ্টি এল। দুই পরিবারের মিষ্টি মিলিয়ে টেবিলে।
সুরেশবাবু বললেন, "ছেলেমেয়েরা কতদিন থেকে চেনে?" "প্রায় বছর হল।" "বছরে অনেক কিছু বোঝা যায়।" "হ্যাঁ।"
সুরেশবাবু একটু থামলেন। "আমি তিতলির মতামত জানি। আপনারা কী ভাবছেন?"
"আমরা ছেলের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।" "আর ছেলে?" "ছেলে নিশ্চিত।"
সুরেশবাবু অর্ণবের দিকে তাকালেন।
"অর্ণব।"
"হ্যাঁ।"
"তুমি নিশ্চিত?"
অর্ণব তাকাল। সরাসরি। "হ্যাঁ।" "কেন?"
সবাই তাকিয়ে। দুই মা। দুই বাবা। তিতলি।
অর্ণবের উত্তর
"কারণ তিতলি আমাকে ভালো মানুষ করেছে।"
"আগে আমি লিখতে পারতাম না। ভয় পেতাম। নিজেকে বিশ্বাস করতাম না।"
"তিতলি দেখিয়েছে — ভয় পেলেও এগোতে হয়। ভেজা হাতে ধরতে হয়।"
"যে মানুষ আমাকে এটা শেখায় — তাকে ছাড়া আমার জীবন অসম্পূর্ণ।"
নীরবতা। ঘরে।
তিতলি তাকিয়ে আছে। চোখে জল। সুরেশবাবু চুপ করে রইলেন। অনেকক্ষণ। তারপর তিতলির মায়ের দিকে তাকালেন।
দুজনের চোখে চোখ। কোনো কথা নয়। কিন্তু বোঝাপড়া।
"আমার একটাই মেয়ে।" "জানি।" "একটাই মেয়ে মানে — সব।" "বুঝি।" "তার সুখ আমার সব।"
সুরেশবাবু অর্ণবের দিকে তাকালেন।
"তার সুখের দায়িত্ব নিতে পারবে?"
"চেষ্টা করব। সারাজীবন।" "শুধু চেষ্টা?"
"নিশ্চিত করার ক্ষমতা কারো নেই। কিন্তু চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারি।"
সুরেশবাবু একটু থামলেন। তারপর বললেন, "সৎ কথা।" মাথা নাড়লেন।
"আচ্ছা।"
সেই "আচ্ছা"।
ছোট্ট। কিন্তু এই "আচ্ছা"-র ভেতর সব ছিল।
তিতলির চোখ থেকে একফোঁটা জল গড়াল।
অর্ণবের মা তিতলির মায়ের দিকে তাকালেন। "আপনারা?" তিতলির মা হাসলেন।
"আমি তো অনেকদিন আগেই রাজি।" "কখন থেকে?"
"যেদিন ছেলে নাড়ু নিয়ে এসেছিল।"
সবাই হাসল। অর্ণব একটু অবাক। "সেদিন থেকে?"
"সেদিন বুঝেছিলাম — ছেলে ভালো পরিবারের। মায়ের হাতের নাড়ু নিয়ে আসা মানে মায়ের কথা মনে আছে।"
"মায়েরা বোঝেন।"
সুরেশবাবু বললেন, "অর্ণব, তুমি লেখো?" "চেষ্টা করি।" "তিতলি বলেছে।"
"বলেছে — অর্ণবদা লেখে। ভালো লেখে।" অর্ণব একটু হাসল। "বাড়িয়ে বলেছে।"
"না। তিতলি কখনো বাড়িয়ে বলে না।"
দুপুরে খাবার। দুই পরিবার মিলে।
তিতলির মা রান্না করেছেন। অর্ণবের মা মিষ্টি এনেছেন। সবাই মিলে। টেবিলে। দুই পরিবার। প্রথমবার একসাথে।
"সুরেশবাবু, আপনি কবে বারাসাত ফিরবেন?" "আর দু-তিন বছর। তারপর।" "তারপর এখানেই?" "এই শহর ছাড়া থাকব না।"
"আমিও।" অর্ণবের বাবা বললেন।
দুই বাবার মিল। এই শহরকে ভালোবাসা।

শীতের বারান্দায় — দুজনের কথা
বিকেলে। বারান্দায়। শীতের রোদ পড়েছে।
"কেমন লাগছে?" "ভালো।" "ভয় পেয়েছিলে?" "হ্যাঁ।" "এখন?" "নেই।"
"বাবা কী বললেন বুঝলে?" "হ্যাঁ।" "কী বললেন?"
"আচ্ছা।"
- এটুকুই যথেষ্ট। তোমার বাবা কম কথায় বেশি বলেন।"
"অর্ণব।" "হুম।" "তুমি একটা কথা বললে।" "কোনটা?" "যে তিতলি আমাকে ভালো মানুষ করেছে।" "বললাম।" "এটা কি সত্যি?"
অর্ণব তিতলির দিকে তাকাল। "সত্যি।"
"কারণ তোমার আগে আমি অনেক কিছু দেখতাম না। দেওয়ালের রং দেখতাম না। বাচ্চার আঁকা সূর্যে বেশি দাগ দেখতাম না। শিমুলগাছে বাবার স্মৃতি দেখতাম না।"
"তুমি শিখিয়েছ — দেখতে।"
"আমি তোমাকে কিছু শিখিয়েছি?" "অনেক কিছু।" "তুমিও আমাকে শিখিয়েছ।" "কী?"
"শিখিয়েছ — কথায় ছবি আঁকা যায়। তোমার লেখা পড়লে মনে হয় — দেখতে পাচ্ছি।"
"অর্ণব।" "হুম।" "আজকের পরে কী হবে?" "কী মানে?" "মানে — পরের ধাপ কী?"
"পরের ধাপ সময়মতো আসবে।" "কতদিনে?" "জানি না।"
"তুমি জানো না?" "না। কিন্তু একটা জিনিস জানি।"
"এই বছরটা শুরু হয়েছিল একটা স্টেশনে। একটা মেয়ে বসে বই পড়ছিল। আজকে শেষ হচ্ছে দুই পরিবার একসাথে বসে।"
"এক বছরে অনেক দূর।" "হ্যাঁ।" "পরের বছর?"
"পরের বছর আরো দূর।"
যাওয়ার সময়। দুই পরিবার। দরজায়।
সুরেশবাবু অর্ণবের বাবার সাথে হাত মেলালেন। "ভালো থাকবেন।" "আপনিও।" "শীঘ্রই আবার দেখা হবে।" "হবে।"
দুই মায়ের মধ্যে একটা উষ্ণতা। তিতলির মা অর্ণবের মায়ের হাত ধরলেন। "আসবেন।" "আসব।" "মিষ্টিটা ভালো ছিল।" "আপনার রান্না ভালো ছিল।" দুজন হাসলেন।
বাইরে। শীতের সন্ধ্যা।
তিতলি দরজায়। অর্ণব একটু পেছনে।
দুজনের চোখ মিলল। কথা নেই। কিন্তু চোখে অনেক কথা।
মোড়ে ঘুরে একবার দেখল। তিতলি এখনো দরজায়। দেখছে।
অর্ণব হাত নাড়ল। তিতলিও নাড়ল।
তারপর দরজা বন্ধ হল।
বাড়ি ফিরে মা বললেন, "তিতলি খুব ভালো।"
অর্ণব মায়ের দিকে তাকাল। মা রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছেন। "মা।" থামলেন। "কী?" "তুমি কি খুশি?"
"তুমি খুশি হলে আমি খুশি।"
বাবা বললেন, "তুমিও পরিষ্কার কথা বললে। চেষ্টার কথা। নিশ্চিত না বলে চেষ্টার কথা বললে। এটা সৎ।"
"তোমার দাদু মারা যাওয়ার আগে বলেছিলেন — ছেলে যখন ভালো মানুষ বেছে নেয়, তখন বাবার কাজ শেষ।"
"আমার কাজ শেষ।"
রাতে মোবাইলে
"বাবা কিছু বললেন?" "বললেন — আচ্ছা।" "আর?" "আর কিছু না।" "বাবা কম কথায় বলেন।" "জানি। কিন্তু আচ্ছা মানে অনেক।" "জানি।"
"অর্ণব।" "হুম।" "আজকে দুই পরিবার বসল।" "হ্যাঁ।" "এটা সত্যি মনে হচ্ছে না।" "কেন?"
"কারণ মাত্র এক বছর আগে তোমাকে চিনতামই না।" "এক বছরে অনেক কিছু হয়।" "হ্যাঁ।"
"পরের বছর আরো হবে।" "কী হবে?"
"যা হওয়ার কথা।"
"তুমি রহস্যময় হয়ে গেছ।" "তোমার প্রভাব।" "আমি রহস্যময়?" "একটু।" "কখন?" "যখন হাসো।"
তিতলি উত্তর দিল না। কিছুক্ষণ পরে —
"আজকে ভালো দিন ছিল।" "ছিল।" "বছরের সেরা?"
"হ্যাঁ। আজকের দিনটা বছরের সেরা। কারণ আজকে থেকে শুধু আমাদের গল্প নয়। দুই পরিবারের গল্প।"
তিতলি অনেকক্ষণ উত্তর দিল না। তারপর —
"তুমি জানো তোমাকে ভালোবাসি।"
অর্ণব পড়ল। হাসল। লিখল — "জানি। আমিও।"
ছাদে গেল। শীতের রাত। কুয়াশা নামছে।

শীতের রাত — একটা দুয়ার খুলল
এক বছর। কতটা পথ।
স্টেশনের বেঞ্চ থেকে আজকের এই সন্ধ্যায়।
হলুদ মলাটের বই থেকে দুই পরিবারের আলাপে।
ইছামতীর পাড় থেকে প্রদর্শনীতে।
প্রথম বৃষ্টিতে ভেজা থেকে হাত ধরে হাঁটায়।
ভালো লাগা থেকে ভালোবাসায়। আর আজকে — দুই পরিবার। একটা নতুন অধ্যায়।
পাশের বাড়ির কাকুর রেডিও। শীতের রাতেও বাজছে।
"...যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে..."
অর্ণব শুনল। গানটা।
যে রাতে দুয়ার ভাঙে — সেই রাত আসলে খোলার রাত। আজকে একটা দুয়ার খুলল। দুই পরিবারের। দুটো জীবনের। একটা ভবিষ্যতের।
✦ চতুর্দশ পর্বের সমাপ্তি ✦
পরের পর্বে
বছর শেষের রাত। একত্রিশে ডিসেম্বর। বারাসাতে শীতের রাত। অর্ণব আর তিতলি একসাথে। পুরনো বছরকে বিদায়। নতুন বছরকে স্বাগত। আর সেই রাতে — ছাদে দাঁড়িয়ে — আকাশে আতশবাজির আলোয় — অর্ণব তিতলিকে একটা কথা বলল। যেটা এতদিন মনে ছিল। আজকে বলার সময় এসেছে। শুধু তিনটা শব্দ। কিন্তু এই তিনটা শব্দে সারাটা বছর ধরা।
অপেক্ষায় থাকুন — পঞ্চদশ পর্ব: "নতুন বছরের প্রথম মুহূর্ত"
দুই পরিবারের মিলন শুধু দুটো মানুষের গল্প নয়। এটা দুটো ইতিহাসের মিলন। দুটো পরিবারের স্বপ্নের মিলন। দুটো শহরের মানুষের মিলন। বারাসাতে এরকমই হয় — শীতের রোদে, চায়ের সাথে, মিষ্টির বাক্স হাতে — দুটো পরিবার একটা হয়ে যায়। আস্তে আস্তে। স্বাভাবিকভাবে। যেভাবে এই শহরে সব হয়।
