By Ziya Pub Apr 12 Upd Apr 12

বারাসাতের নীল আকাশ - ত্রয়োদশ পর্ব : তিতলি ও অর্ণবের শিল্প প্রদর্শনী ও নতুন স্বপ্ন

শরতের বারাসাতে তিতলি ও অর্ণব মিলে শুরু করল এক নতুন যাত্রা। নিজেদের শিল্প প্রদর্শনী সফল করতে তাদের পরিশ্রম আর ভালোবাসার এক অনন্য গল্প।

বারাসাতের নীল আকাশ - ত্রয়োদশ পর্ব : তিতলি ও অর্ণবের শিল্প প্রদর্শনী ও নতুন স্বপ্ন

Bengali Serial Fiction  ✦  ত্রয়োদশ পর্ব

"বারাসাতের নীল আকাশ"

"দুজনের স্বপ্ন"


শরতের আকাশ — বারাসাত ধুয়ে পরিষ্কার

শরৎ এলে বারাসাতের আকাশ বদলে যায়।

বর্ষার ভার সরে যায়। মেঘ হালকা হয়। নীল গভীর হয়। একটা স্বচ্ছতা আসে — যেন কেউ আকাশটা ধুয়ে দিয়েছে।

নদীর ধারে কাশফুল। মাঠে শিউলি। সকালে উঠলে বাতাসে একটা হালকা গন্ধ — ফুলের, শিশিরের, নতুন কিছুর।

বারাসাতে শরৎ মানে পুজোর আগের সময়। এই সময়টা বছরের সবচেয়ে সুন্দর।


সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিতলি একটা কথা বলল।

"অর্ণব।" "হুম।" "প্রদর্শনীর কথা মনে আছে?" "আছে।" "এই বছর করতে চাই।"

অর্ণব বই রাখল। তিতলির দিকে তাকাল।

"কখন?"    "পুজোর পরে। নভেম্বরে।"    "কোথায়?"    "এখানেই। বারাসাতে।"

"একটা জায়গা আছে। পুরনো একটা হল। কদমতলার কাছে। অনেকদিন বন্ধ। কিন্তু বড়। আলো আসে। দেওয়ালগুলো ভালো।"

"কজনের ছবি রাখবে?"    "বিশ থেকে পঁচিশ।"    "কতটুকু তৈরি?"    "পনেরোটা আছে। বাকিগুলো করতে হবে।"

"দুই মাস সময় আছে।"    "হ্যাঁ।"    "পারবে?"

"তুমি সাহায্য করলে পারব।"

সেদিন থেকে শুরু হল।

প্রদর্শনীর প্রস্তুতি। দুজন মিলে।


প্রথম কাজ — জায়গা ঠিক করা।

মালিক বয়স্ক মানুষ। হলটা অনেকদিন বন্ধ। কিন্তু রাজি হলেন।

"শিল্পের জন্য ব্যবহার হবে?"    "হ্যাঁ।"

"তাহলে ভাড়া লাগবে না।"

দুজন অবাক। "মানে?"

"মানে — শিল্পের জন্য ভাড়া নেব না। এই হলটা অনেকদিন বন্ধ। একটু কাজে লাগুক। এটুকুই চাই।"

তিতলির চোখ ভিজল।

"আপনাকে ধন্যবাদ।"

"ধন্যবাদ দিও না। ভালো ছবি আঁকো।"

দ্বিতীয় কাজ — হলটা পরিষ্কার করা।

সপ্তাহান্তে। অর্ণব এল। তিতলি এল। রিয়া এল। আর তিতলির আরো দুজন বন্ধু। ঝাড়ু দেওয়া। মোছা। দেওয়াল পরিষ্কার। ঘণ্টা তিনেক কাজ।

রিয়া বলল, "অর্ণব, তুমি বেশ কাজের।"    "কেন?"    "কারণ বেশিরভাগ ছেলে এই কাজে আসত না।"    "কেন আসত না?"    "কারণ ঝাড়ু দিতে হবে।"

অর্ণব হাসল। "ঝাড়ু দিতে অসুবিধা নেই।"

রিয়া তিতলির দিকে তাকাল। "দেখলি?"

তিতলি মাথা নামাল। "রিয়া।"    "বললাম তো — ভালো।"

তৃতীয় কাজ — ছবি আঁকা।

তিতলি প্রতিদিন রাতে আঁকে। অফিস থেকে ফিরে। খাওয়ার পরে। রাত দশটা থেকে বারোটা। কখনো একটার পরেও।

"ঘুমাওনি?"    "আঁকছি।"    "কটায় ঘুমাবে?"    "শেষ হলে।"    "শরীর খারাপ হবে।"    "হবে না।"    "তিতলি—"

"অর্ণব। আমি ভালো আছি। সত্যিই। আঁকতে ভালো লাগছে।"

"কেন এত ভালো লাগছে?"    একটু চুপ।

"কারণ এই প্রথমবার নিজের জন্য আঁকছি। কারো ফর্মাটে নয়। কারো পছন্দে নয়। শুধু নিজের।"

একদিন রাতে তিতলি পাঠাল। ছবির ছবি।

নতুন ছবি

একটা পুরনো বাড়ি। জানালায় আলো। বাইরে গাছ। আকাশে তারা।

সহজ দৃশ্য। কিন্তু এত গভীর।

"এটা কোন বাড়ি?"    "তোমার।"    "মানে?"    "মানে তোমার বাড়ি। জানালায় আলো জ্বলছিল। বাইরে থেকে দেখলাম।"

"মানে সেদিন তোমার বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখলাম জানালায় আলো। ভাবলাম — ওইখানে তুমি আছ। হয়তো লিখছ। হয়তো ভাবছ।"

অর্ণব ছবিটা আবার দেখল। এই ছবিতে সে নেই। কিন্তু আছে। জানালার আলোতে।

"এই ছবিটা প্রদর্শনীতে রাখবে?"    "হ্যাঁ।"    "নাম কী দেবে?"

"'যেখানে আলো জ্বলে'।"

"এই নামটা রাখো। বদলো না।"    "বদলাব না।"

চতুর্থ কাজ — লেখা।

"তুমি লিখবে?"    "আমি?"    "হ্যাঁ।"    "কেন আমি?"    "কারণ তুমি ছবি দেখো। বোঝো। আর লিখতে পারো।"

"কিন্তু ছবিগুলো তোমার। তুমি আঁকো। তুমি লিখলেই ভালো হয়।"    "আমি আঁকতে পারি। লিখতে পারি না।"    "পারো।"

"দুজন মিলে করি। আমি ছবি আঁকি। তুমি লেখো।"

সেই শুরু হল। প্রতি রবিবার।

তিতলি ছবি দেখায়। অর্ণব দেখে। তারপর লেখে। ছোট্ট। কয়েক লাইন। কিন্তু সেই লাইনগুলো ছবির ভেতরের কথা বলে।

ছবির পাশে অর্ণবের লেখা

শিমুলগাছের মাঠ

"কিছু জায়গা আছে যেখানে গেলে মনে হয় — এখানে আগেও এসেছি। হয়তো জন্মের আগে। হয়তো ভিন্ন কোনো জীবনে। শিমুলগাছের নিচে দাঁড়ালে সেই অনুভূতি হয়।"

ইছামতীর পাড়

"নদী চলে যায়। কিন্তু নদীর শব্দ থাকে। যারা নদীর পাড়ে বসে কথা বলেছে — তাদের কথা থাকে। জলে মিশে। বাতাসে মিশে। চিরকাল।"

বারাসাত স্টেশন

"কিছু স্টেশন আছে — শুধু যাওয়া-আসার জায়গা নয়। দেখা হওয়ার জায়গা। যেখানে একদিন কেউ বসে ছিল। চা খাচ্ছিল। আর অপ্রত্যাশিতভাবে কারো সাথে দেখা হয়ে গেল। সেই দেখা বদলে দিল সব।"

"এই লেখায় আমাদের গল্প আছে!"    "আছে।"    "প্রদর্শনীতে লোকে পড়বে!"    "পড়ুক।"

"হয়তো বুঝবে। হয়তো নিজের গল্প মনে পড়বে। ভালো শিল্প সবার গল্প বলে।"

তিতলি চুপ করে রইল। তারপর বলল —

"তুমি জানো — তুমি শুধু লেখক নও।"

"তুমি শিল্পীও। শুধু অন্য মাধ্যমে।"


অক্টোবর এল। পুজো এল।

পুজোর রাত — বারাসাতে উৎসব

বারাসাতে পুজো মানে উৎসব। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে আলো। ঢাকের শব্দ। ফুলের গন্ধ। মানুষের ভিড়।

পুজোয় দুজন ঘুরল। হাতে হাত ধরে। বারাসাতের মণ্ডপে মণ্ডপে।

একটা মণ্ডপে দাঁড়িয়ে তিতলি বলল, "দেখো।" দুর্গার মূর্তি। বিশাল। রঙিন। আলোয় ঝলমল।

"সুন্দর।"    "শিল্পী কতক্ষণ কাজ করেছেন মনে হয়?"    "অনেকক্ষণ।"

"একটা মূর্তির জন্য মাসের পর মাস। তারপর পুজোর কয়দিন। তারপর বিসর্জন।"

"শিল্পী জানেন — শিল্পের স্থায়িত্ব মূর্তিতে নয়। মানুষের মনে।"

"তোমার ছবিও তাই।"    "হ্যাঁ। ছবি কাগজে আছে। কিন্তু যদি কেউ দেখে মনে কিছু অনুভব করে — সেটাই আসল।"

নভেম্বর এল। প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।

ছবিগুলো তৈরি। লেখাগুলো তৈরি। হলটা পরিষ্কার। দেওয়ালে ছবি লাগানো হচ্ছে। একটা শনিবার। সবাই মিলে।

রিয়া বলল, "অর্ণব, এটা একটু বাঁ দিকে।"    অর্ণব সরাল। "এখন?"    "আরো একটু।"    "এখন?"    "পারফেক্ট।"

তিতলি দূর থেকে দেখল। "হ্যাঁ। ঠিক আছে।"

দুপুরে খাবারের বিরতি। সবাই মাটিতে বসল। মুড়ি। তেলেভাজা। চা।

রিয়া বলল, "তিতলি, তুমি কি জানো — এই প্রদর্শনী তোমার জীবন বদলে দেবে?"    "কীভাবে?"    "কারণ এই প্রথমবার তুমি নিজের হয়ে কিছু করছ।"

তিতলি চুপ। "ভয় লাগছে।"    "কীসের ভয়?"    "মানুষ যদি না আসে?"    "আসবে।"    "যদি ছবি ভালো না লাগে?"    "লাগবে।"    "তুমি নিশ্চিত?"    "হ্যাঁ।"

"কারণ ছবিগুলো সত্যি। সত্যি জিনিস সবসময় ভালো লাগে।"

রিয়া বলল, "শুনলি?" তিতলি হাসল।

সন্ধ্যায় কাজ শেষ। হলটা তৈরি।

বিশটা ছবি। দেওয়ালে। সব আলোয়।

তিতলি দাঁড়িয়ে দেখল। সব ছবি।

নিজের আঁকা। নিজের জীবনের। নিজের দেখা বারাসাত।

চোখ ভিজল।

রিয়া পাশে এল। "কাঁদছিস?"    "না।"    "চোখে জল।"    "খুশির।" রিয়া জড়িয়ে ধরল।

অর্ণব দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল। এই দৃশ্যটা। তিতলি। তার ছবির সামনে। চোখে জল। কিন্তু মুখে হাসি। এই মুহূর্তটা। এটা লিখবে।


সকালে উঠল ভোরে। তৈরি হল। নয়টার আগেই পৌঁছাল হলে।

দরজা খুলল। তিতলি। আজকের পোশাক — সাদা কুর্তা। চুল বাঁধা। চোখে একটু উত্তেজনা।

"এসেছ।"    "বললাম আসব।"    "ভেতরে এসো।"

প্রথম দর্শক — খালি হলে একা ছবি দেখা

হলে ঢুকল। একা। শুধু অর্ণব। তিতলি পাশে।

বিশটা ছবি। দেওয়ালে। সকালের আলোয়। ছবিগুলো আলোয় জ্বলছে।

অর্ণব হাঁটল। ধীরে। একটা একটা ছবির সামনে। দেখল। প্রতিটা। তার লেখা পড়ল। ছবির পাশে।

কাশফুলের মাঠ ইছামতীর পাড় শিমুলগাছ স্টেশন বৃষ্টির পরের মাঠ রাতের বারাসাত

সবশেষে একটা ছবি — সারপ্রাইজ

একটা ছাদ। রাতের। একজন মানুষ দাঁড়িয়ে। পেছন থেকে দেখা।

আকাশে তারা। দূরে শহরের আলো।

মানুষটা ছোট। আকাশটা বড়। কিন্তু মানুষটা হারিয়ে যায়নি। দাঁড়িয়ে আছে। তারার সামনে। ছোট্ট। কিন্তু দৃঢ়।

"একা নই"

অর্ণব দেখল। অনেকক্ষণ। তিতলি পাশে দাঁড়িয়ে।

"এটা কে?"    "তুমি।"    "কখন আঁকলে?"    "অনেকদিন আগে। আগে এখানে রাখিনি। আজ রাখলাম।"    "কেন আজ?"    "কারণ এটা আমার সবচেয়ে প্রিয় ছবি।"

"কারণ এই ছবিটায় তুমি আছ। একা। কিন্তু একা নও।"

"তুমি একা দাঁড়িয়ে। কিন্তু পুরো আকাশটা তোমার সাথে। কেউ সত্যিই একা নয়। যদি আকাশটাকে চেনে।"

অর্ণব কিছু বলল না। কিন্তু চোখ ভিজল।

"কাঁদছ?"    "না।"    "মিথ্যে।"    "একটু।"

তিতলি হাসল.

"ভালো কারণে কাঁদলে ক্ষতি নেই।"

অর্ণব হাসল। "তুমি আমার কথাই ফিরিয়ে দিলে।"    "শিখেছি।"

দশটায় উদ্বোধন। মানুষ আসতে লাগল।

নিতাইদা এলেন। ঢুকে ছবি দেখলেন। অনেকক্ষণ। তিতলির কাছে এলেন।

"ছবিগুলো বারাসাতের।"    "হ্যাঁ।"

"কিন্তু শুধু বারাসাতের নয়। সব শহরের।"

"এই ছবিতে যে অনুভূতি — এটা সব জায়গার মানুষ বোঝে। ভালো শিল্প এরকমই। একটা জায়গার গল্প বলে — কিন্তু সব জায়গার মানুষ নিজেকে দেখে।"

তিতলির চোখে জল। "নিতাইদা।"

"কাঁদিস না। খুশিতে কাঁদা ভালো না।"    "কেন?"

"কারণ চোখে জল থাকলে ছবি ঘোলা দেখায়।"

সবাই হাসল।

একজন বৃদ্ধ মানুষ — বয়স সত্তরের বেশি — একটি ছবির সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ। ছবিটির নাম 'একা নই '

তিতলি কাছে গেল। "ভালো লাগছে?"

"এই ছবিটা দেখে আমার ছেলের কথা মনে পড়ল। সে একা থাকে। দূরে। মাঝে মাঝে ভাবি — একা আছে কিনা।"

"কিন্তু এই ছবিটা দেখে মনে হল — সে একা নয়। আকাশ আছে।"

তিতলির চোখ ভিজল। "আপনার ছেলে ভালো আছেন।"

বৃদ্ধ হাসলেন। "তোমার ছবি দেখে মনে হচ্ছে।"

বিকেলে প্রদর্শনী শেষ হল।

শুধু রইল — রিয়া। অর্ণব। তিতলি। হলের মাঝখানে মাটিতে বসল তিনজন। ক্লান্ত। কিন্তু একটা পরিতৃপ্তি।

"কেমন লাগল?"    "ভালো।"    "আরো কিছু?"

"মনে হচ্ছে — অনেকদিন ধরে কিছু একটা ভেতরে ছিল। আজকে বেরোল।"

"এতদিন শুধু নিজে দেখতাম। আজকে অন্যরাও দেখল। ভয়ের। কিন্তু একটু মুক্তির মতো।"

"সেই বৃদ্ধ মানুষটার কথা মনে আছে?" অর্ণব বলল। "তোমার ছবি দেখে তিনি ছেলের কথা ভাবলেন। এটাই।"

"এটাই শিল্প। তুমি এঁকেছ। তিনি দেখলেন। তাঁর ছেলে ভাসল। একটা ছবি তিনটি মানুষকে যুক্ত করল।"

"তোমার লেখাও তাই।"    "হ্যাঁ।"    "আমরা একই কাজ করি। আলাদা মাধ্যমে।"

"দুজনের স্বপ্ন একটা।"

"কী স্বপ্ন?"

"মানুষের মনে পৌঁছানো। তুমি কথায়। আমি রঙে। কিন্তু গন্তব্য একই।"

ফেরার পথে। তিতলি হাঁটছে। অর্ণব পাশে। হাতে হাত।

"একা করলে একটা জিনিস হয়। একসাথে করলে অন্য কিছু হয়।" তিতলি বলল। "বেশি। আলাদা। কিন্তু ভালো।"

"কাল উদ্বোধন।" "হ্যাঁ।" "ভয় লাগছে।" "লাগবেই।" "তুমিও ভয় পাচ্ছ?" "আমি?" "হ্যাঁ। তোমার লেখাও আছে।"

"হ্যাঁ। একটু।"    তিতলি হাসল। "দুজন একসাথে ভয় পাচ্ছি।"    "তাহলে অর্ধেক হয়ে গেল।"    "কীভাবে?"    "দুজনে ভাগ করলে অর্ধেক।"

"অর্ণব।" "হুম।" "আজকে একটা কথা বুঝলাম।"

"স্বপ্ন একা দেখলে স্বপ্ন। একসাথে দেখলে পরিকল্পনা।"

"এটা কোথায় পড়লে?"    "পড়িনি।" তিতলি বলল। "আজকে বুঝলাম।"

"কখন?"    "যখন দেখলাম — তোমার লেখা আর আমার ছবি একসাথে দেওয়ালে। আলাদা আলাদা করে নয়। একসাথে।"

অর্ণব হাতটা একটু শক্ত করল। আলতো। তিতলি টের পেল। পাল্টা ধরল। একটু।

"ভালো হয়েছে আজ।"    "হয়েছে।"    "আরো করব।"    "করবে।"    "সাথে থাকবে?"

"সবসময়।"

তিতলি হাসল। সেই হাসি। প্রথম দিনের। কিন্তু আজকে আরো গভীর। আরো উষ্ণ।

"যাই।" "যাও।" "শুভরাত্রি।" "শুভরাত্রি।"

রাতে মোবাইলে মেসেজ

"আজকে অনেক ভালো দিন ছিল।"    "হ্যাঁ।"    "তোমার জন্য।"

"মানে তুমি না থাকলে এটা হত না।"    "তোমার ছবি ছিল।"    "ছবি তো আগেও আঁকতাম। কিন্তু দেখানোর সাহস ছিল না।"

"এখন হল?"    "এখন হল।"    "কেন?"

"কারণ তুমি আছ।"

"আমি থাকব।"    "জানি।"    "শুভরাত্রি।"    "শুভরাত্রি।"

বাইরে বারাসাতের রাত। শরতের।


শরতের রাত — তারার নিচে ভাবনা

একজন ছবি আঁকে। আরেকজন লেখে।

একজন সাহস দেয়। আরেকজন বিশ্বাস রাখে।

দুজনে মিলে। একটা স্বপ্ন। একটা পৃথিবী।

✦ ত্রয়োদশ পর্বের সমাপ্তি ✦

পরের পর্বে

শীত এসে গেছে। বছর শেষ হচ্ছে। পুরো একটা বছর কেটে গেছে। প্রথম দেখার স্টেশন থেকে আজকের এই জায়গায়। অর্ণব একটা সিদ্ধান্ত নিল। তিতলির বাবা দিল্লি থেকে ফিরছেন। দুই পরিবার একসাথে বসবে। আর সেই বসায় — একটা কথা হবে। যেটার জন্য এতদিন অপেক্ষা।

অপেক্ষায় থাকুন — চতুর্দশ পর্ব: "দুই পরিবার"

স্বপ্ন একা দেখলে স্বপ্ন থাকে। একসাথে দেখলে পরিকল্পনা হয়। আর পরিকল্পনা করলে — একদিন সত্যি হয়। তিতলির ছবি আজকে দেওয়ালে উঠল। অর্ণবের কথা ছবির পাশে লাগল। দুটো আলাদা মানুষের দুটো আলাদা গুণ — মিলিয়ে একটা সম্পূর্ণ শিল্প। ভালোবাসাও এরকম। দুটো অসম্পূর্ণ মানুষ মিলে একটা সম্পূর্ণ জীবন।

Analytics

Unique visitors

0

Visits

0

Reactions

0

💬 Comments (0)

No comments yet.

💌 Share Your Opinion With Us

📖 Read More Articles

Explore more articles and discover interesting stories from our blog.

View All Articles →