রাত তিনটে
রাত তিনটে

ঘরে আলো নেই, কিন্তু ঘুম নেই।
ছাদের দিকে তাকিয়ে আছ — চোখ খোলা, মাথা আরও বেশি। বাইরে সব চুপ, ভেতরে একটা কথা ঘুরছে। থামছে না। তুমি চাইছ সে থামুক, কিন্তু সে জানে না থামতে। অথবা জানে, মানছে না।
তুমি নিজেকে বলছ, এটা নিয়ে আর ভাবব না।
আর ঠিক তখনই মন বলছে, কিন্তু যদি...
এই "যদি"র কোনো শেষ নেই। এটা একটা দরজা যেটা খুললেই আরেকটা দরজা। আর তুমি জানো ভেতরে কিছু নেই হয়তো — শুধু আরেকটা করিডোর।
তবুও হাঁটছ।
কারণ না হাঁটলেও তো থামা যাচ্ছে না।
এই ক্লান্তিটা অদ্ভুত। ঘুমের ক্লান্তি না, পরিশ্রমের ক্লান্তি না — এটা নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে হারের ক্লান্তি। যে যুদ্ধে প্রতিপক্ষও তুমি, সেনাপতিও তুমি।
আর সবচেয়ে কষ্টের কথা হলো — যে জিনিসটা নিয়ে এত ভাবছ, সেটা আসলে আছে কিনা নিশ্চিত না। হয়তো নেই। হয়তো তুমি একটা ছায়ার পেছনে ছুটছ যেটা তোমার নিজের মাথাই বানিয়েছে।
কিন্তু সেই ছায়াও তো সত্যিকারের ভয় দেখায়।
একটু থামো।
শ্বাস নাও — সেই দীর্ঘশ্বাস যেটা না চাইলেও বেরিয়ে আসে, সেটাকে এবার একটু জায়গা দাও। জোর করে আটকে রেখো না।
মন কখনো কখনো এইভাবেই বলে যে সে ক্লান্ত। যে সে একটু বিশ্রাম চায়।
আর এই ক্লান্তিটুকু স্বীকার করতে পারাটাই — খুব ছোট্ট করে হলেও — একটা শুরু।

