যান্ত্রিক
যান্ত্রিক' কবিতাটি যান্ত্রিক শহরের চার দেয়ালের মাঝে বন্দি এক মেয়ের জীবন ও সংগ্রামের গল্প বলে। ইট-পাথরের এই নগরে মানুষের যান্ত্রিক হয়ে ওঠার এক করুণ চিত্র এখানে ফুটে উঠেছে।
যান্ত্রিক
একটি বাংলা কবিতা

ইট-পাথরের আবরণ আর চার দেয়ালের বেশ,
আবৃত একটি মেয়ে, যার শূন্য মনের দেশ।
ও মেয়ে বলি, শুনছো!
আলোর বেণু ছেড়ে আঁধার শিখা মেনে,
বলছি-কী আশায় দিন গুনছো?
শীর্ণ মুখে ম্লান হেসেই বলছো তুমি জানি,
“হ্যাঁ গো! ঊষার আলো উঠলো বলেই,
ও মা! তুমি জানো না বুঝি,
ওই যে দেখো দূর আকাশে বহ্নিশিখা টানি।”
এই রে! দেখলে-ভুলেই বসে আছি,
রাত পোহালে যাত্রা তরী ভিড়লো বুঝি এসে।
শুনছো ওগো মেয়ে, এই শীর্ণ শরীর নিয়ে,
কেমন করে বাইবে তরী বৈঠাখানি দিয়ে?

হঠাৎ চেয়ে দেখি, দাঁড়িয়ে আছে মেয়ে,
যন্ত্রকলের মতোই যেন ধরলো হাঁটা পায়ে।
আসি গো! আবার দেখা হবে,
গন্তব্য খুঁজতে গিয়ে থামলে কী আর হবে।
আঁধার ঘরের মাঝে তুমি এই তো ছিলে বেশ,
হঠাৎ করেই কেমনে তোমার কাটলো ধাঁধার রেশ?
ম্লান মুখে হাসি, ধরলে তরীর রশি,
সময় যাচ্ছে বয়ে-এবার আমি আসি।
অবাক চোখে বিস্ময় নিয়ে রইনু শুধু চেয়ে,
এ কি জীবন, নাকি যন্ত্রকলের যান্ত্রিক এক মেয়ে?
এই যে ছিল বিষাদ বদন, মন-কেমন ছায়া,
হঠাৎ করেই কেমনে এলো চঞ্চলতার মায়া?
মন ভালো বা মন-কেমনের পর্দা সবই ছিড়ে,
জীবন্মৃতের মধ্যিখানে যান্ত্রিক এক মেয়ে।
