গোলাপের চারা
লালিত স্বপ্নের বিয়োগান্তক সমাপ্তি। ভবিষ্যৎ গোছানোর নেশায় আমরা অনেক সময় বর্তমানের মুহূর্তগুলোকে হারিয়ে ফেলি। "যত্ন" সবসময় "টিকে থাকার" নিশ্চয়তা দেয় না—এই কঠোর সত্যটিই এখানে ফুটে উঠেছে।

সেদিন যখন তোমার সাথে দেখা হয়েছিল,
তুমি বলেছিলে তোমার গোলাপ ভালো লাগে।
রাস্তার ওপারের ল্যাম্পপোস্টের নিচে -
যেখানে বড় ফুলের দোকানটা আছে,
কত গোলাপ সেখানে, আরও কত নাম না জানা ফুলের বাহার।
সেদিন বাড়ি ফেরার পথে একটা গোলাপের চারা কিনে এনেছিলাম।
জল-মাটি-সার পেয়ে দিব্বি বেড়ে উঠছিল আমার সাধের গাছটা।
...বহুদিন হলো গাছটা মারা গেছে।
তবে তুমি বিশ্বাস করো, অযত্নে নয়..!
একদিন হঠাৎ করেই একটা পাতা খসে পড়ল।
ভেবেছিলাম প্রকৃতির নিয়মে নতুন কোনো কিশলয়
তার স্থান বুঝে নেবে;
কালের নিয়মে ভাঙ্গা গড়ার খেলায় একদিন জিতে যাবে আমার ছোট্ট চারাগাছটা।
যত বড় হবে, তত তার ডালপালা বিস্তার করবে সে।
নতুন পাতা ধরবে, কুঁড়ি হবে।
আবারও একদিন দেখা হবে আমাদের,
শার্টের পিছনের গোপনস্থানে লুকিয়ে
লোকচক্ষুর আড়াল করে তোমার জন্য নিয়ে যাবো
যত্নে বানানো গোলাপের প্রথম কুঁড়িটা।
তুমি প্রতিদিনের মত বিরক্তিভরা মুখে চেয়ে থাকবে আমার দিকে,
আর আমি বেসুরো গলায় কোনো এক বিভৎস গানের
দু লাইন গাইতে গাইতে তোমার হাতে তুলে দেবো সেই প্রথম ফোঁটা গোলাপ।
হয়তো তুমি তোমার অভ্যস্ত ভঙ্গিতে মুচকি হেসে বলবে,
"যাহ্.. অসভ্য!"
আর আমি আমার পাগলামিটাকে ক্ষণিকের জন্য স্থগিত রেখে বুকে একরাশ অক্সিজেন ভরে নিয়ে সাহস করে বলব...,"ভালোবাসি।"

...কিন্তু,
কোথাও একটা হিসাবের গরমিল হয়েছিল বোধহয়।
আসন্ন গ্রীষ্মের পূর্বাভাস বুঝি বিচলিত করেছিল আমাকে।
বুঝতে পারিনি,
অতি যত্নেও গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়বে একটা একটা করে।
শতসহস্র চেষ্টাতেও বাঁচাতে পারবনা তাকে,
কোনো যত্নের ধার ধারবেনা সে,
কোনো বিধিনিষেধ মানবেনা,
সে চলে যাবে দূরে, অনেক দূরে।
যতদূর গেলে আলোর শেষ রশ্মিটুকুও তাকে ছুঁতে পারবেনা।
যেখানে ফোটোসিন্থেসিসের বালাই নেই,
নেই কোনো প্রাণের চিহ্নমাত্র।
কেউ জানতেই পারবেনা,
কত যত্নে আলগে রাখতে চেয়েছিলাম আমার ছোট্ট চারাগাছটিকে।
বুঝলে প্রিয়তমা,
বোধহয় তোমাকে সেদিন একগোছা গোলাপ কিনে দিলেই ভালো হতো।
