তারপর সে দেখে, সে আটকে পড়েছে কোনো এক অদৃশ্য জালে।
গদ্যকবিতা
১৭ মার্চ, ২০২৬

তারপর সে দেখে, সে আটকে পড়েছে কোনো এক অদৃশ্য জালে।
সামনে অবশ্যম্ভাবী মৃত্যু।
একটা মাকড়শা,
জালের ঠিক মাঝখানে নিশ্চিন্তে বসে আছে।
..সে যত চেষ্টা করে বাধনমুক্ত হওয়ার ,
জালগুলো যেন তাকে আরও আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে।
মাকড়শা এখনো স্থির,
যেন তাড়িয়ে তাড়িয়ে মজা নিচ্ছে
তার শিকারের পাশবিক মৃত্যু যন্ত্রণার।
এ যুদ্ধের নায়ক কে?
যার মৃত্যু আসন্ন,
নাকি সে,
যে নিপুণ দক্ষতায় নিজ শরীরের অবক্ষয়ের দ্বারা ধীরে ধীরে রচনা করেছে সেই অদৃশ্য মৃত্যু ফাঁদ।
দুজনেই তো বাঁচতে চায়।
কিন্তু কি সফল হয় কারোর অভিসন্ধি?
না,
একদিন সবাই মরে যায়।
কেউ দুর্ভাগ্যে মরে, কেউ অনাহারে।
কেউ আগে মরে, কেউ পরে।
বাড়ি, গাড়ি, গোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র সব ফেলে রেখে
মানুষ একদিন স্রেফ মরে যায়।
- কাউকে যুদ্ধ মারে, কাউকে মহামারী।
- কাউকে ধর্ম মারে, কাউকে রাজনীতি।
- একদিন মরে সবাই যায়।
- তাহলে বেঁচে কারা থাকে?

..বেঁচে থাকে সেই প্রতিটি মৃত বস্তু, যাদের জন্ম নেই, মৃত্যু নেই ;
বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়া শহরের জনশূন্য ইমারত বাঁচিয়ে রাখে তার শেষ নিঃশ্বাসটুকু।
ভেসে যাওয়া অস্থি, দাফন হয়ে যাওয়া লাশটাকে বুকে জড়িয়ে ধরে পৃথিবী বেঁচে থাকে।
আর বেঁচে থাকে ভালোবাসা।
- যে ভালোবাসা ছোট্ট বিড়ালছানাটিকে আদর করে দেয়,
- যে ভালোবাসা প্রতিদিন ভোরে উঠে সাধের ফুলগাছে একটু একটু করে জল ঢেলে দেয়,
- যে ভালোবাসা শেষ ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার পর চোখে জল এনে দেয়,
- যে ভালোবাসা নিয়ে প্রেমিকার চোখের পানে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কোনো এক ব্যর্থ প্রেমিক আসন্ন মহাপ্রলয়ের কথা ভুলে যায়,
- প্রিয়জন হারানোর পরেও
যে ভালোবাসা থেকে যায় একা হয়ে যাওয়া মানুষটার প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে,

তার মৃত্যু নেই।
সে বেঁচে থাকে, তারা বেঁচে থাকে।
যুগের পর যুগ মন্বন্তরের ধ্বংসলীলার সাক্ষী হয়েও তারা বেঁচে থাকে।
17/03/2026
```
